ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ
ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ

ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ

ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ :

কক্সবাজা‌রের কুতুব‌দিয়ায় ধুরুংবাজা‌রের ব‌্যবসায়ী তা‌রেক হত‌্যার খুনিদের গ্রেফতার ও ফাসির দাবিতে দোকান বন্ধরেখে অর্ধ দিবস ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাজারের ব‌্যবসায়ীরা।

সোমবার (১০ জুন) সকাল থে‌কে বাজা‌রে প্রায় ৯ শতা‌ধিক দোকান বন্ধ রে‌খে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল কর‌া হয়।

এছাড়া বাজা‌রের তিন প্রবেশ মু‌খে ব‌্যা‌রি‌কেড দি‌য়ে সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ সহ শুধুমাত্র ঔষ‌দের দোকান ছাড়া সব ধর‌ণের ব‌্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।

বাজা‌রের ব‌্যবসা‌য়ীরা জানান, বাজা‌রে এল‌পি গ‌্যাস ব‌্যবসা‌য়ী মো. তা‌রেক‌কে প‌রিকল্পিতভা‌বে দুষ্কৃ‌তিরা হত‌্যা করার প্রতিবা‌দে ও আসামিদের গ্রেফতা‌রের দা‌বি‌তে তারা দোকান-পাট সকাল থে‌কে দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ রে‌খে বি‌ক্ষে‌াভ মি‌ছিল, সহ বি‌ভিন্ন কর্মসূ‌চি পালন কর‌ছেন।

এতে বক্তব্য রাখেন, ধুরুং বাজার ব‌্যবস্থাপনা ক‌মি‌টির সভাপতি ও দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন আল আজাদ, কুতুবদিয়া থানার উপ পরিদর্শক আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মিজবাহুল আলম সিকদার, সদস্য মো. হোছাইন, রিয়াদসহ প্রমুখ।

ছাত্রলীগ নেতাসহ জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ

বক্তারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে স্থানীয় কিশোর গ্যাং ব্যবসায়ী মো. তারেককে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেন।

এ হত্যার ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পুলিশ মূল আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তাঁদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।

তাঁরা বলেন, হত্যাকারীদের কোনো পরিচয় নেই। তাঁদের একটাই পরিচয়, তাঁরা হত্যাকারী। তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার করতে হবে।

অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে, বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এসময় মানববন্ধনে নিহত মো. তারেকের ভাই মো. জিহাদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই হত্যার বিচার চান।

মূল আসামীদের গ্রেপ্তার করতে সকালের সহযোগিতা চেয়ে মানববন্ধনে কুতুবদিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আল আমিন বলেন, ঘটনার পর থেকে মূল আসামিরা পলাতক।

তাঁদেরকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। তবে, এ মামলার আসামি একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৫জুন বুধবার বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মো. তারেককে খুন করে।

ছাত্রলীগ নেতাসহ জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ

 

শুক্রবার নিহতের ভাই মো. জিহাদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার হলেও এজাহারভুক্ত মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

নিহত তারেক দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুছা সিকদার পাড়ার মৃত আবু তাহেরের ছেলে। ধুরুং বাজারের একটি দোকানে তিনি এলপিজি গ্যাসের (সিলিন্ডার) ব্যবসা করেন।

ঘটনার ৩ দিন পর অর্থাৎ ৭ মে নিহতের ছোট ভাই ও সিএনজিচালক মোহাম্মদ জিহান বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

আসামিরা হলেন, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুইল্যারপাড়ার কলিম উল্লাহ ছেলে তরিক উল্লাহ, একই গ্রামের নুর আলমের ছেলে মইন্যা, মগলাল পাড়ার তাবারুল্লাহর ছেলে এহছান, কলিম উল্লাহর ছেলে শরীফ উল্লাহ, হাফেজ আহমদের ছেলে এমরান, আবু সৈয়দের ছেলে শিফাত, দলুর ছেলে মামুন, হাফেজ আহমদের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম, নুর ইসলামের ছেলে ফারুক আজিজ ও নাছির আহমদের ছেলে মাহবুব।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ৪ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান থেকে ব্যবসায়ী তারেককে ডেকে নিয়ে যান আসামি তরিক উল্লাহ, মইন্ন্যা, শরীফ উল্লাহসহ অনেকে।

গভীর রাতে বাড়ি না ফেরায় তারিককে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করা হয়। তখন মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পরের দিন সকালে পুলিশ আয়ূব আলী কোম্পানির বাড়ির সামনে ইটের রাস্তার ওপর থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর সঙ্গে আসামিদের ব্যবসাসংক্রান্ত বিরোধ ছিল বলে পুলিশ ধারণা করছে।

এ জন্যই তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।মামলার বাদী মোহাম্মদ জিহান (২৩) প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসার টাকা লুট করতেই তাঁকে হত্যা করা হয়।

ছাত্রলীগ নেতাসহ জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ

 

আসামিদের মধ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও আছেন। পুলিশ বলছে, তাঁরা কেউ এলাকায় নেই, তাই গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।

নিহত তারেকের স্ত্রী সে‌লিনা আক্তার বলেন, তারেককে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার ছয় দিনেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় আতঙ্কে আছেন তিনি।

সংসারে তাঁর তিন বছর বয়সী একটি ছে‌লে রয়েছে।সে‌লিনা আক্তার বলেন, ঘটনার আধঘণ্টা আগে রাত ৯টায় তারেকের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয় মুঠোফোনে।

তখন তিনি তারেককে ঘ‌রে রান্নার জন্য কিছু তরকারি নি‌য়ে যেতে বলেন। এরপর তাঁকে কল দিলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির প্রথম আলোকে বলেন, তারেক হত্যা মামলার ৮ নম্বর আসামি তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অন্যান্য আসামিরা দ্বীপ ছেড়ে আত্মগোপন করায় গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। আন্দোলন-প্রতিবাদ সভা করছেন। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, তা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক মামলার আসামি হলেও তদন্ত নিজস্ব গতিতে চলবে। ঘটনার পর ছাত্রলীগ নেতারা দ্বীপ ছেড়েছেন বলে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তারপরও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *